ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল দিতে হয়েছে” — হারের পর মুখ খুললেন শান মাসুদ
ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল দিতে হয়েছে” — হারের পর মুখ খুললেন শান মাসুদ

চায়ের পর সব ভেঙে পড়ল — হারের কারণ ব্যাখ্যা করলেন শান মাসুদ
মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ১০৪ রানের হার হজম করে প্রেস কনফারেন্সে এলেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। মুখে হতাশা স্পষ্ট, কিন্তু কণ্ঠে ছিল দায়িত্ব নেওয়ার দৃঢ়তা। দোষারোপের পথে না হেঁটে তিনি যা বললেন, তা এককথায় — ভুল ছিল, শিক্ষা নিতে হবে।
চায়ের পর যেভাবে হাতছাড়া হলো ম্যাচ
চা বিরতির সময় পাকিস্তান ছিল ১১৬/৩। হাতে সাত উইকেট, টার্গেট ২৬৮। ড্র অন্তত হাতের মুঠোয় ছিল, এমনকি জয়ের একটা ক্ষীণ সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছিল না। ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে ফেরা ব্যাটসম্যানরা যদি মাথা ঠান্ডা রাখতেন, গল্পটা অন্যরকম হতে পারত।
কিন্তু হয়নি।
“দেখুন, চা বিরতিতে আমরা ভালো অবস্থানে ছিলাম। তারপরই কয়েকটা উইকেট পড়ে গেল। খেলার পরিস্থিতি বোঝার দিক থেকে আমি মনে করি কিছু ব্যাটসম্যান বুঝতে পারেননি যে লক্ষ্য থেকে তখনও অনেক দূরে আছি আমরা। নিজেদের ম্যাচে ধরে রাখাটা জরুরি ছিল, কিন্তু ভুল সময়ে উইকেট হারালাম। আরও ভালো ক্রিকেটিং সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত,” স্পষ্ট ভাষায় বললেন মাসুদ।
কথাগুলো কারো দিকে আঙুল তোলার মতো নয়, কিন্তু সত্যিটা আড়াল করারও চেষ্টা নেই। চায়ের পর নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ আর তাইজুল ইসলামের যৌথ আঘাতে পাকিস্তান মাত্র ১৬৩ রানে অলআউট হয়ে যায়। সেই শেষ সেশনে পাঁচটি উইকেট মাত্র ৪৭ রানে হারানো — কোনো লড়াকু দলের জন্যই এটা মেনে নেওয়া কঠিন।
দোষ নেবেন নিজেই, কিন্তু আঙুল তুলবেন না
পাকিস্তানের পরাজয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছিল ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে, নির্বাচন নিয়ে, কৌশল নিয়ে। মাসুদ সেই ফাঁদে পা দিলেন না।
“পরিসংখ্যান দেখিয়ে অনেক কিছু বলা যায়, এবং আমি সেটা মেনে নিচ্ছি। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতির অনেক জায়গা আছে। আমি কখনো দোষারোপের খেলা খেলব না। দায়িত্ব আমি নিজেই নেব — তবে আমার মূল চেষ্টা থাকে কোথায় ভালো করছি, কোথায় উন্নতি করতে হবে এবং একটা শক্তিশালী টেস্ট দল হিসেবে আরও কী করা দরকার — এটা বোঝার।”
এই মন্তব্যে মাসুদের নেতৃত্বের একটা দিক স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সমালোচনার ঝড়ে দলকে আড়াল করে রেখে নিজে সামনে দাঁড়ানো — এটা সহজ নয়। তবে একইসঙ্গে এই স্বীকারোক্তিও সত্যি যে পাকিস্তানের ব্যাটিং শেষ সেশনে যতটা দৃঢ় হওয়া দরকার ছিল, ততটা হয়নি।
লক্ষ্য একটাই — পাকিস্তান দলকে এগিয়ে নেওয়া
হারের রাতে অধিনায়কের মাথায় অনেক প্রশ্ন ঘুরতে থাকে। কিন্তু মাসুদ দীর্ঘমেয়াদি ছবিটা থেকে চোখ সরালেন না।
“আমার উদ্দেশ্যের কথা যদি বলেন, সেটা পুরোপুরি পাকিস্তান দলকে উন্নত করার দিকে। দল নির্বাচন হোক, ব্যাটিং পজিশন হোক বা দল সংক্রান্ত যেকোনো বিষয় — মূল লক্ষ্য পাকিস্তান দলের উন্নতি। আগেও বলেছি, টেস্ট ক্রিকেটে সেরাটাই দিতে হয়। এখানে দুর্বল প্রতিপক্ষ বলে কিছু নেই। সবসময় সেরার মুখোমুখি হতে হয়, আর যখনই ভুল করবেন — কোনো ক্ষমা নেই।”
Cricbuzz.top এর পাঠকরা জানেন, এই সিরিজে পাকিস্তান দল কিছুটা পরীক্ষামূলক। নতুন মুখ এসেছে, কিছু সিনিয়র খেলোয়াড় নেই। সেই বাস্তবতায় মাসুদের কাঁধে চাপটা অনেক বেশি। তবু তাঁর কথায় হতাশার চেয়ে শেখার আগ্রহটাই বেশি।
নাহিদ রানাকে কুর্নিশ প্রতিপক্ষের
পাকিস্তানের পরাজয়ের সবচেয়ে বড় কারিগর নাহিদ রানা — এটা বলতে কোনো দ্বিধা করলেন না মাসুদ। বরং প্রতিদ্বন্দ্বী বোলারের প্রশংসায় ছিলেন বেশ উদার।
“ওই পর্যায়টা খেলার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। লোয়ার অর্ডারের বিপক্ষে বোলিং ইউনিট হিসেবে সবসময় এক্সপ্রেস পেস চাই। আমি মনে করি রানা আমাদের লোয়ার অর্ডারের বিপক্ষে দারুণ বোলিং করেছে। তার মান স্পষ্ট, পরিকল্পনাও চমৎকারভাবে বাস্তবায়ন করেছে।”
সত্যিই, নাহিদ রানার শেষ স্পেলটা ছিল দেখার মতো। সাড়ে চার ওভারে চারটি উইকেট, ১৪৭ কিলোমিটার গতিতে রিজওয়ানের স্টাম্প উড়িয়ে দেওয়া, নোমান আলিকে নিপ-ব্যাকারে এলবিডব্লিউ — এই ছেলে যে দ্রুত বড় হচ্ছে, প্রতিপক্ষের অধিনায়কও সেটা অস্বীকার করেননি।
“দুই সেট ব্যাটসম্যান একটু বেশিক্ষণ থাকলে…”
শেষে একটা আক্ষেপের কথাও বললেন মাসুদ। আব্দুল্লাহ ফজল এবং সালমান আলি আঘা — এই দুজন যখন ব্যাট করছিলেন, পাকিস্তান তখন সত্যিই ড্রয়ের কাছাকাছি ছিল। ফজলের ৬৬ রানের ডেবিউ ইনিংস প্রতিরোধের একটা দুর্দান্ত উদাহরণ, কিন্তু তাইজুলের সেই একটি বল সব শেষ করে দিল।
“এটা আমাদের জন্য হতাশাজনক কারণ আমরা অনুভব করছিলাম, দুই সেট ব্যাটসম্যান যদি আরেকটু বেশিক্ষণ ব্যাট করতেন, তাহলে ম্যাচটা ড্রয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারতাম।”
এই একটি বাক্যেই লুকিয়ে আছে পাকিস্তানের পুরো দ্বিতীয় ইনিংসের গল্প। সুযোগ ছিল, কিন্তু কাজে লাগানো গেল না। তাইজুলের বলে ফজলের আউট হওয়া আর পরের ওভারে তাসকিনের কাছে সালমানের উইকেট — দুটো ঘটনা মিলিয়ে মাত্র দুই ওভারে পাকিস্তানের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
পাকিস্তানের সামনে এখন দ্বিতীয় টেস্ট। সিরিজে টিকে থাকতে হলে জিততেই হবে। শান মাসুদ কি এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন? সেই উত্তর মিলবে পরের ম্যাচে।